
ভোলা–বরিশাল সেতুর দাবিতে ইলিশা ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ
আব্দুল মান্নান, ভোলা জেলা।
২৫/১১/২৫ বিকাল ৪ টা
ভোলা–বরিশাল সেতু নির্মাণের দাবিতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ইলিশা ইউনিটের আয়োজনে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকেলে ইলিশা বাজার থেকে শুরু হয়ে স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ জংশন—ইলিশা স্ট্যান্ড, আলীপুর মোড়, বাজার কেন্দ্রীয় এলাকা ও ঘাটসংলগ্ন রোড—প্রদক্ষিণ করে। পরে মিছিলটি এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।
মিছিলে কয়েক শতাধিক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্য
সমাবেশে প্রধান অতিথি ভোলা শহর শাখার সেক্রেটারি বলেন—
“ভোলা–বরিশাল সেতু আজ আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার দাবি। প্রতিবছর ভোলার মানুষকে নদীপথের ওপর নির্ভর করে সমস্যায় পড়তে হয়। শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, বাণিজ্য—সবকিছুতেই আমরা বঞ্চনার শিকার। যদি এই সেতু নির্মাণ হয়, তবে ভোলার মানুষ সরাসরি সড়কপথে বরিশালসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে। দক্ষিণাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যে বিশাল পরিবর্তন আসবে।”
তিনি আরও বলেন—
“দেশে যখন মেগা প্রকল্পের ছড়াছড়ি, তখন ভোলার মানুষের এই ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করা যায় না। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানাচ্ছি—অতি দ্রুত ভোলা–বরিশাল সেতুর বাস্তবায়ন ঘোষণা করতে হবে। জনগণের স্বার্থে প্রয়োজন হলে আরও বড় আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”
সভাপতির বক্তব্য (ইলিশা ইউনিয়ন সভাপতি আল আমিন)
ইউনিয়ন সভাপতি আল আমিন বলেন—
“ভোলা–বরিশাল সেতু শুধু ভোলার মানুষের দাবি নয়, এটি দক্ষিণাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের দাবি। বছরের পর বছর আমরা এই প্রত্যাশা নিয়ে বসে আছি। কিন্তু এখন আর সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই। সরকারকে অবশ্যই এই সেতুর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে।”
তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন—
“শান্তিপূর্ণ আন্দোলনই আমাদের শক্তি। আমরা এই দাবি ঘরে ঘরে পৌঁছে দেবো এবং জনসমর্থন আরও বৃদ্ধি করবো।”
সেক্রেটারির বক্তব্য (জনাব ফরহাদ হোসেন)
ইলিশা ইউনিয়নের সেক্রেটারি জনাব ফরহাদ হোসেন বলেন—
“এই সেতু হলে ভোলার কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, ব্যবসায়ী—সবাই উপকৃত হবে।
ভোলার অসংখ্য তরুণ রাজধানী বা বড় শহরে যেতে পারছেন না শুধুমাত্র যোগাযোগ সমস্যা থাকার কারণে। সেতু হলে তাদের কর্মসংস্থানের পথ সুগম হবে।”
তিনি আরও বলেন—
“আজকের এই বিক্ষোভ মিছিল দেখিয়ে দিয়েছে—ভোলার মানুষ তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবো।”
সমাবেশের সমাপ্তি
নেতৃবৃন্দের বক্তব্য শেষে দোয়ার মাধ্যমে সমাবেশের কার্যক্রম শেষ হয়। মিছিলে উপস্থিত নেতাকর্মীরা ভোলা–বরিশাল সেতুর দাবিকে আরও জোরালোভাবে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
