ভোলা ৪ আসনের আগামী জাতীয় নির্বাচনে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ঘোষণা করেছে- বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের আমীর

ভোলা সরকারি স্কুল মাঠে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের গণসমাবেশ ও সংসদ প্রার্থী ঘোষণা

ভোলা প্রতিনিধি,আব্দুল মান্নান ভোলা জেলা।
আজ শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫) দুপুর ২টায় ভোলা সরকারি স্কুল মাঠে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের উদ্যোগে এক বিশাল গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে হাজারো নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথি:
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর, পীর সাহেব চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। তিনি তার বক্তব্যে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং বলেন, “দেশের প্রতিটি ভোটাধিকারীকে সুষ্ঠু ও নিরাপদ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। ভোট চুরি, ভোট কেন্দ্র দখল, মাদক ও সন্ত্রাস দমনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের মূলনীতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”

সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা:
গণসমাবেশের সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ভোলা জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা মুফতি আতাউর রহমান নোমানী।
সমাবেশ সঞ্চালনা করেন ভোলা জেলা উত্তর সেক্রেটারি মাওলানা তরিকুল ইসলাম। তিনি সমাবেশের প্রারম্ভ থেকে শেষ পর্যন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

সমাবেশের দাবি ও মনোভাব:
নেতৃবৃন্দ আরও দাবি করেন—

পি আর (PR) পদ্ধতিতে নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে।

নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষা করতে রাষ্ট্রীয় সংস্কার জরুরি।

সাম্প্রতিক গণহত্যার ন্যায়বিচার দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে।

ভোট চুরি, ভোট কেন্দ্র দখল, মাদক ও সন্ত্রাস দমন করা হোক।

সংসদ প্রার্থী ঘোষণা:
সমাবেশের শেষ পর্যায়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর, পীর সাহেব চরমোনাই মুফতি রেজাউল করীম ভোলা আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। মনোনীত প্রার্থীরা হলো—

ভোলা সদর-১ আসন: মাওলানা ওবায়দুর রহমান দৌলতখান

ভোলা সদর-২ / বোরহান উদ্দিন আসন: মুফতি রেজাউল করিম বোরহানী

লালমোহন ও তজুমদ্দিন আসন: জনাব মোসলেম উদ্দিন

চরফ্যাশন ও মনপুরা আসন: জনাব কামাল উদ্দিন

আমীর মুফতি রেজাউল করীম বলেন, “প্রত্যেক প্রার্থী সমাজের কল্যাণ, শান্তি ও ন্যায়পরায়ণ নেতৃত্ব প্রদানের মাধ্যমে জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকবেন। ইসলামী মূল্যবোধ ও নৈতিকতার প্রতি তাদের দৃঢ় অঙ্গীকার রয়েছে।”

উপস্থিতি ও পরিবেশ:
সমাবেশে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে হাজারো নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। ব্যানার, ফেস্টুন ও স্লোগানে সমাবেশ প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে। নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশে অংশ নেন এবং জাতীয় ও ধর্মীয় স্লোগান উচ্ছ্বাসের সঙ্গে উচ্চারণ করেন।

সমাবেশের সমাপ্তি:
সমাবেশটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও কার্যকরভাবে সমাপ্ত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *