ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে এক দিনে ২ শিশু নিখোঁজ, চাঁদা না পেয়ে ১ জনকে হত্যা পুকুর থেকে শিশুর লাশ উদ্ধার।

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে এক দিন ২ শিশু নিখোঁজ: মুক্তিপণ না পেয়ে ১ শিশুকে হত্যা, পুকুর থেকে শিশুর লাশ উদ্ধার ।

ময়মনসিংহ সংবাদদাতা | ১২ জুলাই ২০২৫।ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় একই দিনে নিখোঁজ হয় দুই শিশু। এর মধ্যে মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে মাত্র ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে হত্যা করে পুকুরে ফেলে দেয় অপহরণকারীরা। শনিবার সকালে উপজেলার চরশাঁখচূড়া গ্রামে একটি পুকুর থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।নিহত শিশুটির নাম সিফাত হাসান। সে চরশাঁখচূড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র এবং সৌদি প্রবাসী নূর ইসলামের ছেলে।ঘটনার বিবরণ:শুক্রবার (১১ জুলাই) দুপুরে বাড়ির পাশেই খেলতে বের হয় সিফাত। কিছুক্ষণ পরেই তার বাবার মোবাইলে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে মুক্তিপণের জন্য ফোন আসে। ফোনালাপে অপহরণকারীরা বিকাশে টাকা দাবি করে এবং পরে প্রবাসী বাবার ভাগ্নে জিসান অপহরণকারীদের দেওয়া বিকাশ নম্বরে (০১৭৬৫-০৪৪১৫) দুই হাজার টাকা পাঠান।কিন্তু টাকার পরও ফিরে আসেনি সিফাত। পরদিন সকালে বাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা এবং পুলিশে খবর দেওয়া হয়।শিশুটির মা কবিতা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান,> “আমি বাবার বাড়িতে ছিলাম। খবর পেয়ে ছুটে এসেছি। টাকা দিয়েও ছেলেকে বাঁচাতে পারলাম না। আমার বুক খালি হয়ে গেছে।”একই দিনে আরেক শিশু নিখোঁজ:এদিকে একই উপজেলার দিঘীরপাড় গ্রামের পাঁচ বছর বয়সী শিশু আইমান সাদাব একই দিনে নিখোঁজ হয়। সে প্রবাসী আল-আমিনের ছেলে। পরিবারের সদস্যরা জানান, শুক্রবার বিকেলে বাড়ির কাছে একটি দোকানে হালখাতার অনুষ্ঠানে মাইক বাজছিল। সেই শব্দ শুনে শিশুটি দোকানের সামনে গেলে সেখান থেকেই নিখোঁজ হয়ে যায়।শিশুটির নানা সুলতান মিয়া পাগলা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। তিনি বলেন, “আমার নাতিকে কে বা কারা নিয়ে গেছে জানি না। আমরা উদ্বিগ্ন, সে কোথায় আছে, বেঁচে আছে কি না—এটাই এখন বড় প্রশ্ন।পাগলা থানার ওসি মোহাম্মদ ফেরদৌস আলম বলেন, “নিহত সিফাতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। আর নিখোঁজ সাদাবকে উদ্ধারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে।সামাজিক উদ্বেগ:দুই শিশুর এমন পরিণতিতে এলাকায় তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।— বিশেষ দ্রষ্টব্য: এ ধরনের ঘটনায় পরিবার ও শিশুর মানসিক নিরাপত্তা রক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা উচিত। প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজেরও ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *