ভোলা–বরিশাল সেতুর দাবিতে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ—শহর সভাপতির ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

ভোলা–বরিশাল সেতুর দাবিতে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ—শহর সভাপতির ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

আব্দুল মান্নান, ভোলা জেলা।

ভোলার দীর্ঘদিনের অবহেলা, সেতু সংকট ও চিকিৎসা দুর্ভোগের প্রতিবাদে আজ শনিবার সালাতুল আসরের পর ভোলার জান্নাতুল ফেরদাউস (খলিফাপট্টি) জামে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে ইসলামী ছাত্রশিবির ভোলা পৌরসভার উদ্যোগে এক বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
মিছিলটি এলাকায় উল্লেখযোগ্য গণজমায়েতে রূপ নেয় এবং শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে খলিফাপট্টিতে এক প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন ইসলামী ছাত্রশিবির নেতা হাসনাইন আহমেদ।

মিছিল ও জনসমাবেশ

বিক্ষোভ মিছিলে বিভিন্ন ওয়ার্ডের ছাত্র ও তরুণদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। হাতে প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও স্লোগান–ধ্বনিতে অংশগ্রহণকারীরা দীর্ঘদিনের অবহেলিত দাবি—“ভোলা–বরিশাল সেতু নির্মাণ”—এর প্রতি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন ইসলামী ছাত্রশিবির ভোলা পৌরসভা সভাপতি জাহিদুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্য: দীর্ঘদিনের দাবি, কিন্তু সমাধান অধরা

প্রধান অতিথির বক্তব্যে গ্যাস ও সেতু আন্দোলনের নেতা এবং ইসলামী ছাত্রশিবির ভোলা শহর সভাপতি আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন—

“ভোলার ২২ লাখ মানুষের ন্যায্য দাবি বারবার উপস্থাপন করা হলেও সরকার এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। বিভিন্ন পর্যায়ের উপদেষ্টা ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে বহু বৈঠক করেছি। প্রতিবারই আশ্বাস পাওয়া গেছে, কিন্তু কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। মানুষ আশ্বাসে নয়, বাস্তব কর্মযজ্ঞে সাড়া চায়।”

তিনি বলেন,
“ভোলা বাংলাদেশের একমাত্র জেলা, যা মূল ভূখণ্ড থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। রাত ১০টার পরে কেউ গুরুতর অসুস্থ হলে চিকিৎসার জন্য বরিশাল বা ঢাকায় নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে প্রতিনিয়ত ভোলাবাসী জীবন হারাচ্ছে। এ বৈষম্য দূর করতে ভোলা–বরিশাল সেতুর বিকল্প নেই।”

গুরুত্বপূর্ণ হুঁশিয়ারি: ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

তার বক্তব্যে তিনি কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন—

“আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সেতু নির্মাণের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি বা শুরু না হলে ভোলা থেকে গ্যাস নিতে দেওয়া হবে না। ভোলার সম্পদে ভোলার অধিকার আছে। দাবির ন্যূনতম অগ্রগতি না হলে ভোলাবাসী আর চুপ করে থাকবে না।”

ভোলা–বরিশাল সেতুর গুরুত্ব

সমাবেশে বক্তারা আরও উল্লেখ করেন—

ভোলায় বছরে হাজারো রোগী জরুরি চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়েন।

সেতু না থাকায় ভোলার বিশাল গ্যাস–সম্পদ যথাযথভাবে ব্যবহৃত হলেও স্থানীয় মানুষ তার সুফল থেকে বঞ্চিত।

ভোলা দেশের সর্ববৃহৎ দ্বীপ জেলা হওয়ায় অর্থনীতি, পর্যটন এবং শিল্প–কারখানার ব্যাপক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বিচ্ছিন্নতার কারণে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত।

সেতু হলে দিনে লাখো মানুষের যাতায়াত সহজ হবে, ব্যবসা–বাণিজ্যে বিপ্লব ঘটবে।

সমাবেশের সমাপ্তি

সমাবেশ শেষে নেতৃবৃন্দ সরকারের প্রতি ভোলাবাসীর ন্যায্য দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। জনতার স্লোগান—
“সেতু চাই, জীবন বাঁচাই”—
“ভোলার গ্যাস, ভোলার অধিকার”—
শহরজুড়ে প্রতিধ্বনিত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *