কক্সবাজার হয়ে দেশব্যাপী মাদক কারবার ঠেকাতে সেনাবাহিনী-আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একসাথে।
মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসন রোধে সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে কক্সবাজার ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পকেন্দ্রিক মাদক নিয়ন্ত্রণে একটি শক্তিশালী টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। গঠনের অল্প সময়ের মধ্যেই এই টাস্কফোর্স গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে।টাস্কফোর্স গঠনচলতি বছরের ১৪ জুলাই কক্সবাজার বিয়াম আঞ্চলিক কেন্দ্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এক বিশেষ সভায় এ টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
২০ জুলাই প্রজ্ঞাপন জারি করে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ কক্সবাজার এলাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ টাস্কফোর্স’ কার্যক্রম শুরু করে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কক্সবাজার উপপরিচালক সোমেন মন্ডলকে সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।সীমান্তপথে ইয়াবার আগ্রাসনগোয়েন্দা সংস্থার তথ্যমতে, মিয়ানমার থেকে ইয়াবা ও অন্যান্য মাদক নিয়মিতভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে কক্সবাজারে প্রবেশ করছে। পাহাড়, উপকূল, রেল, সড়ক ও সমুদ্রপথের কারণে কক্সবাজার এখন চোরাচালানকারীদের জন্য একটি কৌশলগত ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে।তিন দফা কার্যক্রমটাস্কফোর্স মূলত তিনটি দিক সামনে রেখে কাজ করছে—১️⃣ সেনাবাহিনী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দাদের সমন্বিত অভিযান ও নজরদারি বৃদ্ধি।২️⃣ সমাজে মাদকবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টি ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা।৩️⃣ মাদক-সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা।প্রথম সাফল্যটাস্কফোর্স গঠনের পর মাত্র কয়েক সপ্তাহেই উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে। ১৫ জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত অভিযানে জব্দ করা হয়েছে—২১,৭৯,৪৮৩ পিস ইয়াবা১৪৯২.৫ লিটার বাংলা মদ৩৮ কেজি ৩২১ গ্রাম গাঁজা৭৩৫ ক্যান বিয়ার২ কেজি ৫৮৫ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথএকই সময়ে ৩৪৭ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার হয়ে আইনগত প্রক্রিয়ায় এসেছে।মাদকমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্নটাস্কফোর্সের মতে, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান নয়, সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি অপরিহার্য। এজন্য শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা ও তরুণদের সম্পৃক্ত করা হবে। গণমাধ্যমকেও এই প্রচারণায় সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।সংশ্লিষ্টরা বিশ্বাস করছে, কক্সবাজারকেন্দ্রিক মাদক নেটওয়ার্ক ভেঙে দিলে সারাদেশে মাদক নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের অগ্রগতি আসবে। সরকারের প্রত্যাশা, সমন্বিত প্রচেষ্টা ও সামাজিক প্রতিরোধের মাধ্যমে বাংলাদেশ অদূর ভবিষ্যতে একটি মাদকমুক্ত রাষ্ট্রে পরিণত হবে।
