ভোলার উন্নয়ন দাবিতে “আমরা ভোলাবাসী” প্রতিনিধিদলের সাথে সেতু মন্ত্রণালয়ের গঠনমূলক আলোচনাসভা।
ঢাকা, ১৪ জুলাই:রাজধানীর সেতু ভবনে “আমরা ভোলাবাসী” সংগঠনের ১৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের সাথে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৪ জুলাই) দুপুর ১২টায় অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী শেখ মইনুদ্দিন। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন), সেতু বিভাগের যুগ্ম সচিবসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।ভোলার উন্নয়ন ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতকরণে “আমরা ভোলাবাসী” সংগঠনের পক্ষ থেকে আলহাজ্ব গোলাম নবী আলমগীর, ছাত্রশিবির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল আমিন, ইসলামী আন্দোলনের সেক্রেটারি তরিকুল ইসলাম, রাহিম ইসলাম ও মীর মোশারফ হোসেন ওমি নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল উপস্থিত থেকে ছয় দফা দাবি উপস্থাপন করেন।ছয় দফার মূল বিষয়সমূহ:১. গৃহস্থালি পর্যায়ে গ্যাস সংযোগপ্রতিনিধিরা জোরালোভাবে ভোলায় গ্যাস সংযোগ দাবি করলে কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ার আলোকে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য সময় চান।২. ভোলা-বরিশাল সেতু প্রকল্পজানানো হয়, এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে বাংলাদেশ ও জাপান সরকারের মধ্যে অগ্রগতি হয়েছে এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রাথমিক নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।৩. মেডিকেল কলেজ ও স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণভোলায় মেডিকেল কলেজ স্থাপনের প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে এবং সরকার এটিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বর্তমানে জেনারেল হাসপাতালে ২৯ জন চিকিৎসক রয়েছেন, এবং শিগগিরই আরও নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। হাসপাতালের ৮ তলায় ডায়ালাইসিস ও আইসিইউ ইউনিট স্থাপনাধীন রয়েছে।৪. নদীভাঙন রোধ ও মেরিন ড্রাইভ প্রকল্পটেকসই বেরিবাঁধ নির্মাণ এবং একটি সম্ভাব্য ৩৫-৪০ কিমি দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভ প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের ইতিবাচক মনোভাবের কথা জানানো হয়।৫. পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ভোলায় একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে উচ্চপর্যায়ের সরকারি কমিটি কাজ করছে এবং ভোলা এখন পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রতিষ্ঠানের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে।3৬. জরুরি চিকিৎসা সেবাভোলা-বরিশাল নৌপথে দ্রুত চিকিৎসা পৌঁছাতে ৩টি নৌ অ্যাম্বুলেন্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।সভায় অংশগ্রহণকারী সরকারি কর্মকর্তারা ভোলার সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আন্তরিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। প্রতিনিধি দল সরকারের সদিচ্ছা ও ইতিবাচক মনোভাবের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং আগামীতে আরও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।—-
