গাজীপুরে সাংবাদিক তুহিন হত্যা: ৮ আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল।
গাজীপুর সংবাদদাতা ।।
২৫ আগস্ট ২০২৫
গাজীপুরে বহুল আলোচিত সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যা মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ। ২৪ আগস্ট রোববার, ঘটনার ১১ কর্মদিবস পর এ চার্জশিট আদালতে জমা দেওয়া হয়।পরিকল্পিত হামলা ও সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডপুলিশ জানায়, মূলত বাদশা মিয়াকে হত্যার উদ্দেশ্যে একটি সংঘবদ্ধ চক্র “হানি ট্র্যাপ” কৌশল ব্যবহার করে ফাঁদ তৈরি করেছিল। ৭ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে চান্দনা চৌরাস্তার একটি এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলে ফেরার সময় বাদশা মিয়াকে উত্যক্ত করেন পারুল আক্তার গোলাপী। এ সময় পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে।ঘটনাটি নিজের মোবাইলে ভিডিও করছিলেন সাংবাদিক তুহিন। তখন গোলাপী চিৎকার করে বলে ওঠেন— “তুহিন সাংবাদিক ভিডিও করছে!”। এরপর হামলাকারীরা বাদশাকে ছেড়ে তুহিনের দিকে ধেয়ে আসে। প্রথমে কেটু মিজান দা দিয়ে আঘাত করে, পরে স্বাধীন, সুমন, আরমান, আলামিন ও ফয়সাল মিলে তাকে কোপাতে থাকে। একপর্যায়ে মিজান তুহিনের মোবাইল নিয়ে পালিয়ে যায়। হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে গেলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তুহিনের।মামলার অগ্রগতিপরদিন নিহতের ভাই সেলিম বাদী হয়ে বাসন থানায় হত্যা মামলা (নং-১৪, তারিখ ০৮/০৮/২০২৫) দায়ের করেন। তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ, ফরেনসিক রিপোর্ট ও প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দি বিশ্লেষণ করে পুলিশ মোট ৮ আসামিকে গ্রেফতার করে।চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন:১. মো. মিজানুর রহমান ওরফে কেটু মিজান (৩৪)২. তার স্ত্রী পারুল আক্তার গোলাপী (২৮)৩. মো. আল আমিন (২১)৪. সুমন সাব্বির মামুন (২৬)৫. মো. ফয়সাল হাসান (২২)৬. মো. শাহজালাল জালাল (৩২)৭. স্বাধীন সাদিক সেলিম (২৮)৮. মো. রফিকুল ইসলাম আরমান (১৯)পুলিশের বক্তব্যসংবাদ সম্মেলনে পুলিশের উপকমিশনার (অপরাধ) রবিউল হাসান জানান—“ঘটনাস্থলের উপস্থিতি, অস্ত্রের ব্যবহার, আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও প্রযুক্তিগত প্রমাণ মিলিয়ে তাদের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়েছে। দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি।”নিহত পরিবারের দাবিতুহিনের স্ত্রী ফরিদা আক্তার বলেন—“চার্জশিট দাখিলে আমরা স্বস্তি পেয়েছি। তবে এখনো তুহিনের ব্যবহৃত মোবাইল উদ্ধার হয়নি। আমি সেই মোবাইল উদ্ধারের জোর দাবি জানাই এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”
