ভোলা সরকারি কলেজ শিক্ষার্থী সুকর্ণা আক্তার ইপ্সিতার অপমৃত্যু: সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার দাবি

ভোলা: ভোলা সরকারি কলেজের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সুকর্ণা আক্তার ইপ্সিতা (২১)–এর ম’র্মা’ন্তিক মৃত্যু ঘিরে জনমনে তীব্র চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ছাত্রদল থেকে সদ্য পদত্যাগ করে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেওয়ার পরপরই তিনি ধ’র্ষ’ণের শি’কা’র হয়ে নদীতে ঝাঁ’প দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনাটি ঘটে ১৭ জুন, শনিবার সকালে

কর্ণফুলী-৪ নামক লঞ্চটি ভোলা থেকে ঢাকা যাচ্ছিল। মেহেন্দীগঞ্জের পরে ইলিশা ঘাট অতিক্রমের সময় লঞ্চের তৃতীয় তলা থেকে এক তরুণী নদীতে ঝাঁপ দেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে লঞ্চের মাস্টার প্রায় এক ঘণ্টা লঞ্চ ব্যাক গিয়ারে চালিয়ে উদ্ধার চেষ্টা চালান, কিন্তু ব্যর্থ হন। পরে লঞ্চটি ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে।

৯৯৯-এ কল করে এক নারীর চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

লঞ্চে থাকা আরেক নারী যাত্রী ৯৯৯-এ ফোন করে জানান, ঝাঁপ দেওয়া তরুণী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এবং সেই কারণেই আত্মহত্যা করেছেন।

ইপ্সিতার রাজনৈতিক সম্পর্ক ও পদত্যাগ

সুকর্ণা আক্তার ইপ্সিতা ভোলা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। জানা যায়, রমজান মাসে ছাত্রদলের একটি কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল কলেজে গেলে তিনি সদস্য ফরম পূরণ করেন এবং সংগঠনে যুক্ত হন। তবে সম্প্রতি দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও মানসিক চাপের কারণে তিনি ছাত্রদল থেকে পদত্যাগ করেন এবং ফেসবুকে একটি পোস্টে তার সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেন। পোস্টটি দেওয়ার একদিনের মাথায়ই তার এই মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে।

পরিবার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য

ইপ্সিতার পরিবার জানায়, ১৭ জুন সকালে প্রাইভেট পড়াতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হন তিনি। এরপর আর ফেরেননি। পরদিন তার বাবা ভোলা সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
২১ জুন, বৃহস্পতিবার বিকেলে ইপ্সিতার ম’র’দে’হ উদ্ধার করা হয়, যা ছিল অর্ধগলিত ও ক্ষতের চিহ্নে ভরা। চার দিন পানিতে থাকার ফলে মরদেহের অবস্থা ছিল ভয়াবহ।

জনমতের দাবি: সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার

ইপ্সিতার এই অপমৃত্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে প্রবল প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তার মৃত্যুর পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র আছে কিনা, ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা কতটুকু, এসব বিষয় নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছে সাধারণ মানুষ।

এ ঘটনায় ভোলা জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে,
👉 ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হোক।
👉 ধ’র্ষ’ণ ও আত্মহত্যার দায়ে জড়িতদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হোক।
👉 সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক চাপ থেকে তরুণদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হোক।


সুকর্ণা আক্তার ইপ্সিতার অকাল মৃত্যু যেন আর একটি সংখ্যা হয়ে না থাকে—এই দাবি আজ সারাদেশে।
একজন শিক্ষার্থী, এক তরুণীর সম্ভাবনাময় জীবন এবং এক পরিবারের আশা যেন নিঃশেষ না হয় ন্যায়বিচারের অভাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *