৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম ‘নিখোঁজ’: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ইরান

📍 আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ২৪ জুন ২০২৫

ইরানের তিনটি পরমাণু স্থাপনায় মার্কিন হামলার ঠিক আগে সেখান থেকে প্রায় ৪০০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম। এই ইউরেনিয়াম ১০টিরও বেশি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত হতে পারে—এমনটাই আশঙ্কা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।

স্যাটেলাইট ছবি ও গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নাতাঞ্জ, ফোরদো এবং ইসফাহান অঞ্চলের পরমাণু স্থাপনাগুলোতে হামলার আগেই ইউরেনিয়াম ও তা সমৃদ্ধকরণে ব্যবহৃত কিছু যন্ত্রপাতি গোপন স্থানে সরিয়ে নেয় ইরান। যদিও ওই ইউরেনিয়াম কোথায় রাখা হয়েছে, তা এখনও অজানা।

সূত্র অনুযায়ী, সরিয়ে নেওয়া ইউরেনিয়াম ছিল ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ। এটি ৯০ শতাংশে পৌঁছালে তা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে সরাসরি ব্যবহারযোগ্য হয়ে ওঠে। ইসরায়েলি ও মার্কিন গোয়েন্দাদের ধারণা, এসব উপাদান বিশেষ ছোট বাক্সে করে গোপনে একটি ভূগর্ভস্থ স্থানে, সম্ভবত ইসফাহানের আশেপাশে স্থানান্তর করা হয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, তাঁর ধারণা ইউরেনিয়াম এখনো ফোরদোতেই রয়েছে এবং মার্কিন বোমা হামলায় সেটি ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে। তবে তিনি এই বিষয়টি নিয়ে শতভাগ নিশ্চিত নন বলে স্বীকার করেন।

এদিকে, হামলার পর ইরান ঘোষণা দেয়, তারা তাদের পরমাণু কর্মসূচি অব্যাহত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ ইসলামি রাষ্ট্রীয় টিভিকে জানান, ‘‘আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি এবং হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো পর্যালোচনা করছি।’’

চুক্তি থেকে সরে আসার হুমকি

ইসরায়েলের প্রথম দফার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, তারা পরমাণু বিস্তার রোধ চুক্তি থেকে বেরিয়ে যেতে পারে। তারা দাবি করে, তাদের কর্মসূচি পুরোপুরি বেসামরিক উদ্দেশ্যে, এবং সেটি থেকে তারা সরে আসবে না।

বিশ্লেষকদের মত

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই ইউরেনিয়াম স্থানান্তর ও গোপন কর্মসূচির সম্ভাবনা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়বে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।


📌 সম্পাদনা ও প্রতিবেদনে: [Bhola Media House] নিউজ ডেস্ক
🌐 সূত্র: ফক্স নিউজ, আল-জাজিরা, রয়টার্স ও আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *