তজুমদ্দিনের চর মোজাম্মেলে প্রাথমিক শিক্ষার ঘাটতি, তিন হাজার শিশু বঞ্চিত , দুর্গম চরে বিদ্যালয় কম, শিক্ষার স্বপ্ন ফিকে হয়ে যাচ্ছে শিশুদের চোখে ।
মোঃ জাকির হোসাইন, তজুমদ্দিন (ভোলা) প্রতিনিধি:
ভোলা জেলার তজুমদ্দিন উপজেলার ৩নং চাঁদপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত মেঘনার বুকে জেগে ওঠা বিশাল চর মোজাম্মেল শিক্ষা অবকাঠামোর মারাত্মক সংকটে ভুগছে। প্রায় ৩৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই চরে বসবাস করছে প্রায় ২২ হাজার মানুষ। কিন্তু এই বিপুল জনসংখ্যার জন্য প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত।বর্তমানে চরে মাত্র তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে, যা ৬ থেকে ১৮ বছর বয়সী প্রায় ৩,০০০ ছেলে-মেয়েকে শিক্ষার আওতায় আনার জন্য একেবারেই অপর্যাপ্ত। চরের বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, চরটির প্রস্থ পূর্ব-পশ্চিমে প্রায় ৪ কিলোমিটার এবং দৈর্ঘ্য উত্তর-দক্ষিণে প্রায় ৯ কিলোমিটার। দীর্ঘ দূরত্ব এবং নৌ-যোগাযোগের জটিলতার কারণে অনেক শিশু বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে পারে না, ফলে তারা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।স্থানীয়দের মতে, অবিলম্বে হানু দালাল ঘাট এলাকায় একটি, বরফ মিল এলাকায় একটি এবং মুক্তিযোদ্ধা বাজার থেকে ২ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে আরও একটি বিদ্যালয় স্থাপন অত্যন্ত জরুরি। এতে চরাঞ্চলের শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।চরের এক অভিভাবক বলেন, “আমার ছেলে প্রতিদিন প্রায় তিন কিলোমিটার হেঁটে স্কুলে যায়। বর্ষার সময় কাদা-মাটি আর নদীর ঢেউ পার হতে গিয়ে অনেক দিনই ক্লাস মিস হয়। আমরা চাই সন্তানদের জন্য কাছাকাছি স্কুল হোক।”শিক্ষাবান্ধব সরকারের কাছে স্থানীয় জনগণ জোর দাবি জানিয়েছে, যাতে চর মোজাম্মেলের প্রতিটি শিশুর কাছে শিক্ষার আলো পৌঁছে যায় এবং তারা দেশের মূলধারার উন্নয়নে অংশ নিতে পারে।
