মেঘনায় লঞ্চ দুর্ঘটনায় ভোলাবাসীর বুকজুড়ে শোক,ঘন কুয়াশায় সংঘর্ষ, প্রাণ গেল ৪ যাত্রীর আহত অর্থ শতাধিক.

মেঘনায় লঞ্চ দুর্ঘটনায় ভোলাবাসীর বুকজুড়ে শোক,ঘন কুয়াশায় সংঘর্ষ, প্রাণ গেল ৪ যাত্রীর আহত অর্থ শতাধিক.

ভোলা প্রতিনিধি:

শীত মৌসুমের ঘন কুয়াশা কেড়ে নিল আরও কয়েকটি তাজা প্রাণ। চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার মেঘনা নদীতে দুই যাত্রীবাহী লঞ্চের সংঘর্ষে অন্তত ৭ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন এবং অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ভোলা জেলার চারজন বাসিন্দা থাকায় জেলায় নেমে এসেছে শোকের মাতম।বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে হাইমচরের হামিদচর এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোলার ঘোষেরহাট থেকে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী লঞ্চ এমভি জাকির সম্রাট–৩ গভীর রাতে ঘন কুয়াশার মধ্যে মেঘনা নদী অতিক্রম করছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে ঢাকার একটি রাজনৈতিক সম্মেলনে অংশ নেওয়া যাত্রী নিয়ে বরিশালগামী এমভি অ্যাডভেঞ্চার–৯ লঞ্চটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সজোরে ধাক্কা দেয় জাকির সম্রাট–৩ লঞ্চে।সংঘর্ষের তীব্রতায় জাকির সম্রাট–৩ লঞ্চটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আতঙ্কে অনেক যাত্রী নদীতে ঝাঁপ দেন। কুয়াশা ও রাতের আঁধারে উদ্ধার কার্যক্রমে চরম বিঘ্ন ঘটে। দুর্ঘটনার পর অ্যাডভেঞ্চার–৯ লঞ্চটি ঘটনাস্থল ত্যাগ করায় যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।খবর পেয়ে ভোলা থেকে ঢাকাগামী এমভি কর্ণফুলী–৯ লঞ্চটি দ্রুত এগিয়ে এসে অসহায় যাত্রীদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়। পরে আহত ও নিহতদের নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জাকির সম্রাট–৩ লঞ্চটি চিকিৎসার জন্য চাঁদপুরের দিকে রওনা দেয়।চাঁদপুরের হাইমচর থানাধীন এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া নিহতদের মধ্যে ভোলার লালমোহন ও চরফ্যাশন উপজেলার চারজন রয়েছেন। নিহতদের মরদেহ শনাক্তের পর তাদের পরিবারের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।এ ঘটনায় নৌযান চলাচলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কুয়াশাকালীন নেভিগেশন ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নৌ-পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ঘটনাটি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে।–

-মোঃ আব্দুর রহমান হেলাল

ভোলা জেলা সংবাদদাতা

তারিখ: ২৬/১২/২০২৫

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *