ভোলা শিবপুর বালিকা বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকার দুর্নীতি ও নির্যাতনের অভিযোগে উত্তাল শিক্ষক–শিক্ষার্থী, অপসারণের দাবি।

ভোলা শিবপুর বালিকা বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকার দুর্নীতি ও নির্যাতনের অভিযোগে উত্তাল শিক্ষক–শিক্ষার্থী, অপসারণের দাবি।

এ আর হেলাল ।

ভোলা প্রতিনিধি।।

ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকা নুরুন নাহার বেগম ও তার স্বামী সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলামকে ঘিরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও শিক্ষক–শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে প্রধান শিক্ষকের অপসারণ ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

🔹 দুর্নীতির অভিযোগে ভারাক্রান্ত ইতিহাস:

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নুরুন নাহার বেগম নিয়মিত ক্লাস না নিয়ে সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ, হুমকি-ধমকি এবং সামান্য কারণে শিক্ষার্থীদের ক্লাস থেকে বের করে দেওয়াসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছেন।এছাড়া টিকা নিবন্ধন ও উপবৃত্তির নামে অভিভাবকদের কাছ থেকেও অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ২০০২ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়ে তিনি ২০০৪ সালে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সহায়তায় অবৈধভাবে প্রধান শিক্ষক পদে বসেন।এরপর একের পর এক অনিয়ম করে বেতন ভোগ, টাইম স্কেল গ্রহণ এবং সহকারী শিক্ষক এমপিওভুক্তির নামে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

🔸 সহকারী প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত: ক্ষোভের আগুন-

সম্প্রতি (২৭ জুলাই) সহকারী প্রধান শিক্ষক বেলায়েত স্যারকে বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করেন নুরুন নাহার বেগম।এই ঘটনার পর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।তারা বলেন,> “প্রধান শিক্ষিকার কারণে বিদ্যালয়ে ভয় ও বিশৃঙ্খলার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা এখন আতঙ্কের মধ্যেই ক্লাসে আসে।”

🔹 ক্ষমতার অপব্যবহার ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ:

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, নুরুন নাহার বেগম ও তার স্বামী সিরাজুল ইসলাম শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, মিথ্যা মামলা ও ভয়ভীতি প্রদানের মাধ্যমে বিদ্যালয়ে একচ্ছত্র ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করেছেন।স্থানীয় সূত্রের দাবি, সাবেক প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিজের স্ত্রীকে অবৈধভাবে প্রধান শিক্ষকের পদে বসিয়েছেন।

🔸 বিদ্যালয় কমিটি ও শিক্ষা কর্মকর্তার বক্তব্যবিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. বেলায়েত মিয়া বলেন,>”সহকারী প্রধান শিক্ষককে প্রকাশ্যে অপমান করা অত্যন্ত দুঃখজনক। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগগুলো গুরুতর—আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।”তবে প্রধান শিক্ষক নুরুন নাহার বেগম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,> “বিদ্যালয়টি আমার স্বামীর অর্থায়নে পরিচালিত হয়। কারও সঙ্গে খারাপ আচরণ করিনি।”এ বিষয়ে ভোলা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আজাহারুল হক জানান,> “প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। প্রমাণ মিললে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

🔹 শিক্ষকদের একটাই দাবি—“অপসারণই সমাধান”বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা একবাক্যে বলেন,> “নুরুন নাহার বেগমকে অপসারণ ছাড়া বিদ্যালয়ে শান্তিপূর্ণ শিক্ষা পরিবেশ ফিরে আসবে না।”তারা দ্রুত শিক্ষা প্রশাসনের সুষ্ঠু তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।

স্থান: শিবপুর বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ভোলা সদর

📅 তারিখ: ৬ নভেম্বর ২০২৫

🖋️: এ আর হেলাল, ভোলা প্রতিনিধ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *