চাঁদাবাজি বিরোধী অবস্থানে শাস্তি: ইসলামী আন্দোলনের কর্মী গ্রেফতার, ওসির অপসারণ দাবিতে ভোলায় সংবাদ সম্মেলন।

চাঁদাবাজি বিরোধী অবস্থানে ‘শাস্তি’: ইসলামী আন্দোলনের কর্মী গ্রেপ্তার, ওসির অপসারণ দাবিতে ভোলায় সংবাদ সম্মেলন।

মোঃ আব্দুর রহমান (হেলাল)।

১০ জুলাই ২০২৫

ভোলা সদর উপজেলার ভেদুরিয়া লঞ্চঘাটে চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের একজন কর্মীকে “ষড়যন্ত্রমূলকভাবে” গ্রেফতারের অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় কর্মীর মুক্তি ও ভোলা সদর থানার ওসির অপসারণ দাবিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও এর অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার ভোলা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন ভোলা জেলা উত্তর শাখার সভাপতি মোঃ নুরুল ইসলাম পাঠওয়ারী। তিনি বলেন, “গ্রেপ্তার হওয়া মোঃ সিরাজুল ইসলাম একজন অটোরিকশা চালক ও ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের সক্রিয় সদস্য। গত কয়েক মাস ধরে ভেদুরিয়া ঘাটে একটি প্রভাবশালী চাঁদাবাজ চক্র সক্রিয়। সিরাজুল তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন, কয়েকজনকে কোস্টগার্ডে ধরিয়ে দেন এবং মামলা দায়ের করেন। সেই প্রতিশোধ নিতে তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে।”বক্তব্যে আরও বলা হয়, ৮ জুলাই দিবাগত রাতে ভেলুমিয়া তদন্ত কেন্দ্রের এসআই কিবরিয়ার নেতৃত্বে পুলিশ কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়াই সিরাজুলকে তার ঘর থেকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে শ্রমিক লীগের পরিচয়ে দেখিয়ে মামলা দেওয়া হয়, যা তাঁরা ‘ভূয়া ও বানোয়াট’ বলে দাবি করেন।ইসলামী আন্দোলন নেতৃবৃন্দ দাবি করেন, “সিরাজুল ইসলাম শ্রমিক লীগ কিংবা অন্য কোনো সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। তাঁর গ্রেপ্তার একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। আমরা তার মুক্তি দাবি করছি এবং একইসাথে ভোলা সদর থানার ওসি আবু শাহাদাৎ মোঃ হাসনাইন পারভেজকে অপসারণের দাবি জানাচ্ছি।”প্রতিবাদ ও হুঁশিয়ারিনেতারা আরও বলেন, যদি অবিলম্বে সিরাজুল ইসলামের মুক্তি ও ওসির অপসারণ না করা হয়, তাহলে ভোলায় ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।উপস্থিত ছিলেনসংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন—মাওলানা আতাউর রহমান মোমতাজীমাওলানা তরিকুল ইসলাম (সেক্রেটারি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ভোলা জেলা উত্তর)মাও. শরিফ বিন রফিক (সেক্রেটারি, ভোলা সদর থানা শাখা)মাও. মাহমুদুল হাসান (সভাপতি, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন, ভোলা উত্তর)পুলিশের বক্তব্যঅভিযোগের বিষয়ে ভোলা সদর মডেল থানার ওসি আবু শাহাদাৎ মো. হাসনাইন পারভেজ বলেন, “সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক অটোরিকশা চালককে মারধর করে পুকুরে ফেলে রাখার অভিযোগে মামলা রয়েছে। এটি একেবারেই আইনানুগ পদক্ষেপ। তার অতীতে চাঁদাবাজির অভিযোগও তদন্তাধীন রয়েছে।”এই ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পক্ষ ও বিপক্ষের বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন থাকলেও, নিরপেক্ষ তদন্ত ও সঠিক বিচার দাবি করছেন সচেতন নাগরিকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *