গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১০-পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী ।

গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১০ – পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী ।

স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর :গাজীপুরের শ্রীপুরে বকেয়া বেতনসহ ১০ দফা দাবিতে আরএকে সিরামিক কারখানার শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে শ্রমিক, পুলিশ সদস্য ও একজন সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে, পাল্টা জবাবে শ্রমিকরাও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীকেও মোতায়েন করা হয়।রবিবার (২৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার ফরিদপুর এলাকায় অবস্থিত আরএকে সিরামিক কারখানার সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। শ্রমিকরা প্রথমে কারখানার গেটে অবস্থান নিলেও পরে তারা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে উঠে এসে সড়ক অবরোধ করে। এতে দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।দীর্ঘ সময় অবরোধ চলার পর সকাল ৯টার দিকে পুলিশ শ্রমিকদের সরাতে গেলে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। এ সময় শ্রমিকরা পুলিশের দিকে ইট-পাটকেল ছুড়লে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের সময় বেশ কয়েকটি যানবাহনও ভাঙচুর করা হয়।পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সেনাবাহিনীর একটি টিম ঘটনাস্থলে এসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করে। অবশেষে সকাল ১০টার দিকে আন্দোলনকারী শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, “শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণভাবে রাস্তা থেকে সরানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তারা পুলিশের ওপর হামলা চালানোয় পরিস্থিতি সামাল দিতে আমাদের কড়া ব্যবস্থা নিতে হয়েছে।”আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানায়, তাদের বকেয়া বেতন, ওভারটাইম বিল, কর্মপরিবেশ উন্নয়ন, চাকরি স্থায়ীকরণসহ মোট ১০ দফা দাবি বহুদিন ধরেই উপেক্ষিত ছিল। এ বিষয়ে বারবার অভিযোগ করা হলেও মালিকপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। তাই বাধ্য হয়ে তারা রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন।স্থানীয় বাসিন্দা ও বিশ্লেষকদের মতে, শ্রমিকদের দাবিগুলো নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এমন বিক্ষোভ ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে।—গাজীপুর২৭ জুলাই ২০২৫—

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *