
মহিব্বুল্যাহ ইলিয়াছ
মনপুরা ভোলা প্রতিনিধি ।
ভোলা জেলার মনপুরা উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ চর কলাতলীতে বসবাস করছে প্রায় ২২-২৫ হাজার মানুষ। এখানকার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রটি ২০০৫ সালে অনুমোদন পাওয়ার পর থেকে শুধুমাত্র আশ্রয়ন প্রকল্পের তিনটি কক্ষে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তবে ২০ বছর পেরিয়ে গেলেও, এ তদন্ত কেন্দ্রে আধুনিক কোনো উন্নয়ন বা সংস্কার হয়নি।
চর কলাতলী ইউনিয়নের চারপাশে বেড়িবাঁধ না থাকায়, বর্ষাকালে জোয়ারের সময় পুলিশ ফাঁড়ি তলিয়ে যায়। পুলিশ সদস্যদের জন্য তিনটি ঘর হলেও, বৃষ্টির পানি প্রবেশের কারণে তাদের বিছানা, আসবাবপত্রসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ভিজে যায়। নিচু জায়গায় অবস্থিত হওয়ায়, রান্নার কোনো ব্যবস্থা নেই এবং জোয়ারের পানি ঢুকে গেলে অস্ত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র হারানোর শঙ্কাও থাকে।
স্থানীয় আবাসন বাজারের ব্যবসায়ী হাসান জানান, “২০ বছর আগে পুলিশ ফাঁড়ি চালু হলেও, এখানে কোনো উন্নয়ন হয়নি। বর্ষাকালে তাদের ভিজতে দেখেছি এবং জোয়ারের পানিতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি। একটি আধুনিক ভবন নির্মাণ হলে পুলিশ সদস্যরা নিরাপদে থাকতে পারবেন।”
কলাতলী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইকবাল বলেন, “২০০৫ সাল থেকে আমাদের কার্যক্রম চলছে, কিন্তু বেড়িবাঁধের অভাবে বর্ষাকালে প্রতিটি ঘর পানিতে ডুবে যায়। এতে পুলিশ সদস্যরা মানবেতর জীবনযাপন করছে। আশা করছি, আমাদের ডিআইজি স্যার শীঘ্রই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ব্যবস্থা নিবেন।”
মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আহসান কবির জানান,”চর কলাতলীর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রটির নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারটি অবগত আছেন । আগামী মাসের ভেতরে চর কলাতলী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের জন্য বরাদ্দ আসার সম্ভাবনা আছে। “
স্থানীয়রা দ্রুত একটি আধুনিক পুলিশ ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন, যা শুধু পুলিশ সদস্যদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করবে না, পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বড় ভূমিকা রাখবে।
