হানিট্রাপ থেকে হত্যাকান্ড: সাংবাদিক তুহিন হত্যাকাণ্ড মামলায় নতুন মোড়ের ইঙ্গিত, সাত আসামি গ্রেফতার, সালাতো আরমান এখনো ধরাছোঁয়ার বাহিরে

হানিট্র্যাপ থেকে হত্যাকাণ্ড: সাংবাদিক তুহিন মামলায় নতুন মোড়ের ইঙ্গিত— সাত আসামি গ্রেপ্তার, পলাতক আরমান এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।

গাজীপুর সংবাদদাতা।।

গাজীপুর মহানগরের ব্যস্ত চান্দনা চৌরাস্তা—যেখানে সাধারণত গার্মেন্টস শ্রমিক, দোকানপাট ও পথচারীর কোলাহল থাকে—সেই স্থান এখন আতঙ্ক ও শোকের প্রতীক। এখানে সংঘটিত হয়েছে দৈনিক প্রতিদিন পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যাকাণ্ড, যার পেছনে রয়েছে এক সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের ভয়ঙ্কর “হানিট্র্যাপ” ফাঁদ।ঘটনাপ্রবাহপুলিশ জানায়, ঘটনার মূল নায়ক মিজান ওরফে “কেটু মিজান” তার স্ত্রী গোলাপীকে ব্যবহার করে গার্মেন্টস শ্রমিক বাদশাকে হানিট্র্যাপে ফেলার চেষ্টা করে। বাদশা ব্যাংক বুথ থেকে ২৫ হাজার টাকা তুলে ফিরছিলেন, পথে গোলাপী তাকে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করে। বাদশা প্রতারণা টের পেয়ে সরে যাওয়ার চেষ্টা করলে হাতাহাতি হয় এবং মিজানের নেতৃত্বে লুকিয়ে থাকা সন্ত্রাসীরা বাদশার ওপর চাপাতি দিয়ে হামলা চালায়।এ দৃশ্য মোবাইল ক্যামেরায় ধারণ করছিলেন সাংবাদিক তুহিন। সন্ত্রাসীরা ভিডিও মুছে ফেলতে চাপ দেয়, কিন্তু ব্যর্থ হলে পাশের দোকানে ঢুকে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে।তদন্তে নতুন দিকপুলিশের একটি সূত্র জানায়—তুহিনের মোবাইল ফোন এখনো উদ্ধার হয়নি। তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনে হয়তো ভিন্ন মোটিভ রয়েছে, যা কেবল বাদশাকে টার্গেট করার ঘটনা নয়। কারও নির্দেশে বা গভীর ষড়যন্ত্রে তুহিনকে হত্যা করা হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।গ্রেপ্তার ও পলাতক আসামিসিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত ৮ জনের মধ্যে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে—মো. মিজান ওরফে কেটু মিজান (৩৪) ও তার স্ত্রী পারুল আক্তার ওরফে গোলাপী (২৮)মো. স্বাধীন (২৮)মো. আল আমিন (২১)মো. শাহজালাল (৩২)মো. ফয়সাল হাসান (২৩)সুমন ওরফে সাব্বির (২৬)পলাতক আসামি নীল জামা পরা আরমানকে ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।অস্ত্র ও অপরাধের ইতিহাসগ্রেপ্তারদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি রামদা, একটি ব্যাটন-স্টিক ও তিনটি চাপাতি। তাদের সবার বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি ও অস্ত্র মামলার রেকর্ড রয়েছে।পুলিশের বক্তব্য ও সাংবাদিক সমাজের প্রতিক্রিয়াজিএমপি কমিশনার ড. নাজমুল করিম খান বলেন—“এটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। মেডিকেল রিপোর্ট হাতে পেলেই ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।”এদিকে সাংবাদিক সংগঠনগুলো বলছে—এটি কেবল একজন সাংবাদিকের মৃত্যু নয়, বরং সত্যের কণ্ঠরোধের নির্মম উদাহরণ। দ্রুত বিচার না হলে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড আরও বাড়তে পারে।গাজীপুরবাসী এখন অপেক্ষা করছে—হানিট্র্যাপ থেকে শুরু হওয়া এই রক্তাক্ত নাটকের পর্দা শেষ পর্যন্ত কারা নামাবে, এবং কে বা কারা আসল মাস্টারমাইন্ড, তা দেখার জন্যে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *