হেডলাইন:একটি নক্ষত্রের পতন ,শোকস্তব্ধ ভোলা: চিরবিদায়ে মজলুম জননেতা মাওলানা মোস্তফা কামাল।

🔴 একটি নক্ষত্রের পতন ,শোকস্তব্ধ ভোলা: চিরবিদায়ে মজলুম জননেতা মাওলানা মোস্তফা কামাল।

ভোলা প্রতিনিধি | মোঃ আব্দুর রহমান হেলাল:

ভোলার রাজনীতি ও ধর্মীয় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভোলা জেলার সাবেক আমির, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও বরিশাল অঞ্চলের টিম সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মোস্তফা কামাল আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুর ২টা ১২ মিনিটে রাজধানীর কল্যানপুর ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৯ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, দুই মেয়ে, অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী, সহকর্মী ও ভক্ত-অনুরাগী রেখে গেছেন।তার ইন্তেকালের খবর নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, এই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে মহান রবের ডাকে সাড়া দিয়েছেন এক নিবেদিতপ্রাণ আলেম ও সংগ্রামী নেতা। তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য ধৈর্য কামনা করেন।ভোলা পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা মোঃ জামাল উদ্দিন জানিয়েছেন, মরহুমের জানাজার সময় ও স্থান পরে পারিবারিক ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঘোষণা করা হবে।সংগ্রাম আর বেদনার এক জীবনঅধ্যক্ষ মোস্তফা কামালের জীবন ছিল সংগ্রামমুখর। স্থানীয়দের মতে, তিনি দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যে থেকেও আদর্শে অবিচল ছিলেন। বিভিন্ন সময় একাধিক মামলায় কারাবরণ করতে হয়েছে তাকে।সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায় ছিল তার বড় ছেলের মৃত্যু, যা তাকে ভেঙে দিলেও তিনি থেমে যাননি। পাশাপাশি, নিজের প্রতিষ্ঠিত এওয়াজপুর অজুফিয়া আলিম মাদরাসায়ও রাজনৈতিক কারণে বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত থাকার অভিযোগ রয়েছে—যা তার ত্যাগী জীবনের আরেকটি দিক তুলে ধরে।সর্বস্তরের শোকতার মৃত্যুতে ভোলা জেলা জামায়াতের আমির মাস্টার মোঃ জাকির হোসাইন, সেক্রেটারি মাওলানা হারুনুর রশিদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এছাড়াও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ইসলামী ছাত্রী সংস্থা, আলহেরা শিল্পীগোষ্ঠীসহ নানা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন শোকবার্তা দিয়েছে।স্মৃতিতে থাকবেন তিনিসহকর্মীদের ভাষ্য, তিনি ছিলেন নীরব কিন্তু দৃঢ়চেতা নেতা—যিনি আদর্শের প্রশ্নে কখনো আপস করেননি। মানুষের পাশে থাকা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা এবং ধর্মীয় মূল্যবোধে অবিচল থাকা ছিল তার জীবনের মূল ভিত্তি।আজ ভোলার প্রতিটি জনপদে যেন শোকের ছায়া। নীরব কান্নায় বিদায় জানাচ্ছে এক সংগ্রামী প্রাণকে—যিনি জীবনের প্রতিটি ধাপে লড়াই করে গেছেন, রেখে গেছেন এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

১৯-০৪-২৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *